জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর হত্যা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মাসুদুর রহমান। গতকাল বুধবার সকাল নয়টার দিকে তার নেতৃত্বে সিআইডির একটি প্রতিনিধিদল জীবননগরে পৌঁছে ডাবলুকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে হেফাজতে নেয়ার স্থানসহ তাকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা স্থানগুলো পরিদর্শন করে। এ সময় তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেন।
ডাবলুর মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর গত ১৯ জুন আদালতে নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাপ্টেন সৌমিকসহ আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে। সিআইডির প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় নিহত ডাবলুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর বিএনপির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়েন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন ইকবাল ঠান্ডু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মামলার বিবরণ ও পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জানুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল হেফাজতে নেয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গেছে। ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পরদিন সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস পাওয়ার পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় নেয়া হয়। ময়নাতদন্তে ডাবলুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে নেতৃত্ব দেয়া চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানিয়েছিলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আঘাতের চিহ্নের সঙ্গে মরদেহে পাওয়া দাগের মিল রয়েছে এবং সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটি মাসুম সন্তানকে এতিম করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।
সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকে মামলার তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত তথ্য ও আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এগিয়ে যাবে। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে আসামিদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করাই এখন নিহতের পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা।


