ঢাকা অফিস:
১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অপারেটররা। পাশাপাশি এলপিজি মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রস্তাবের ওপর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসির গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চার্জ পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব, ব্যয়সংক্রান্ত যুক্তি ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তবে দাম বাড়ানোর বিদ্যমান প্রস্তাব কার্যকর হবে, এমন নয়। গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
এলপিজি অপারেটরদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সেই হিসাবে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তার খরচ বাড়বে ৩০০ টাকা। অর্থাৎ, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে প্রায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মাসে একটি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে আরও ৩০০ টাকা। যদিও প্রস্তাবিত দাম কার্যকর হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। বিইআরসির গণশুনানি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি। আমদানিকারক কোম্পানি বা এলপিজি অপারেটররা গত ১৮ অক্টোবর বিইআরসির কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাবে কোম্পানিগুলো বলেছে, প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি), প্রিমিয়াম বা জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং জ্বালানি তেলের দাম বিবেচনায় নেয় বিইআরসি। তবে গত পাঁচ বছরে এ খাতের অন্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে এসব ব্যয়ের পুরো প্রতিফলন না থাকায় দাম পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) চিঠিতে বলা হয়েছে, বিইআরসি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য চার্জকে নির্দিষ্ট বা ফিক্সড এবং পরিবর্তনশীল বা ভেরিয়েবল- এই দুই ভাগে হিসাব করে। নির্দিষ্ট চার্জের মধ্যে ল্যান্ডিং চার্জ, লেভি চার্জ, রিভার ডিউজ, কাস্টমস সার্ভে ও পোর্ট চার্জ বাবদ প্রতি মেট্রিক টনে ৩০০ টাকা ধরা হয়। অথচ এসব খাতে প্রকৃত ব্যয় ৩৮০ টাকা বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। পরিবর্তনশীল চার্জের মধ্যে ঋণপত্র বা এলসি চার্জ, বিমা ব্যয়, সিঅ্যান্ডএফ কমিশন ও ডিসপোর্ট ইন্সপেকশন চার্জ অন্তর্ভুক্ত। এসব খাতে মোট সিএফআর মূল্যের শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করে বিইআরসি। তবে লোয়াবের দাবি, প্রকৃত ব্যয়ের হার ২ দশমিক ১ শতাংশ। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, বিইআরসির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য অন্য খরচ ধরা হয় ৮ টাকা ৮০ পয়সা। অথচ অপারেটরদের প্রকৃত ব্যয় ২৫ টাকা ১০ পয়সা। এ কারণে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি রিফিলে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেছে লোয়াব। সংগঠনটির ভাষ্য, বিইআরসি আগের মাসের গড় সেটেলমেন্ট রেটের ভিত্তিতে চলতি মাসের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। কিন্তু ডলারের দর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আমদানিকারকদের প্রকৃত ব্যয় ও নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এতে প্রতি মাসেই অপারেটরদের লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া এলপিজি উৎপাদন ও কারখানা পরিচালনার ব্যয় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিইআরসি প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্যাক্টরি ওভারহেড বাবদ ২৩ টাকা ৪৩ পয়সা ব্যয় ধরে। কিন্তু লোয়াবের দাবি, প্রকৃত ব্যয় ৪২ টাকা।
পরিবহন ও বিতরণ ব্যয়কেও অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। প্ল্যান্ট থেকে অন্য প্ল্যান্টে এলপিজি স্থানান্তর এবং সিলিন্ডার বিতরণ বাবদ প্রতি ১২ কেজির রিফিলে ২২ টাকা ৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করেও ধার্য করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যয়ে পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেছে লোয়াব। সংগঠনটির হিসাবে, এ খাতে প্রকৃত ব্যয় প্রতি ১২ কেজিতে কমপক্ষে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা। সিলিন্ডার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের অবচয় ব্যয় নিয়েও আপত্তি রয়েছে অপারেটরদের। বিইআরসির মূল্য নির্ধারণ সূত্রে প্রতি ১২ কেজির জন্য অবচয় বাবদ ৫৭ টাকা ৯৮ পয়সা ধরা হয়েছে। কিন্তু লোয়াবের দাবি, প্রকৃত অবচয় ব্যয় ৬৩ টাকা বা তার বেশি। চিঠিতে আর্থিক ব্যয় নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। তাদের ভাষ্য, বিইআরসি এখনো ২০২১ সালের আর্থিক ব্যয়ের হিসাব ব্যবহার করছে। ওই হিসাবে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ বর্তমানে আর্থিক ব্যয়ের বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে পুরোনো হিসাবের ভিত্তিতে বর্তমান ব্যয় নির্ধারণ করলে প্রকৃত পরিস্থিতি প্রতিফলিত হচ্ছে না।
অপারেটরদের মুনাফা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিইআরসির বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য অপারেটরদের মুনাফা ও করপোরেট ট্যাক্স বাবদ ৩৩ টাকা ধরা হয়। লোয়াবের দাবি, এই হার ২০২৩ সালের অক্টোবরের অপারেটর মূল্য বিবেচনায় মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপুল বিনিয়োগনির্ভর এলপিজি ব্যবসার জন্য এই মুনাফা অপর্যাপ্ত বলে মনে করে সংগঠনটি। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বজায় রাখতে অপারেটরদের মুনাফার হার ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে লোয়াব। এতে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে মুনাফার পরিমাণ প্রায় ১৪০ টাকা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ ৫০ টাকা এবং রিটেইলার চার্জ ৪৫ টাকা, যা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর রয়েছে। লোয়াবের দাবি, মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই অর্থে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবে ১২ কেজি সিলিন্ডারের রিটেইলার চার্জ ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য ব্যয় ও চার্জ সমন্বয় করে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে অপারেটররা। তবে অপারেটরদের এসব ব্যয় ও মুনাফা বৃদ্ধির দাবি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি। প্রস্তাবিত দাম ও চার্জ পরিবর্তনের বিষয়ে গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনা করে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি অপারেটরদের মুনাফা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অপারেটরদের মুনাফা ৩৩ টাকা ধরা হলেও তা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এতে অপারেটরদের মুনাফার অঙ্ক বাড়বে ১০৭ টাকা। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি প্রায় ৩২৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এ খাতে মুনাফার জন্য বরাদ্দ বর্তমানের চার গুণেরও বেশি হবে। বিইআরসির গণবিজ্ঞপ্তিতে শুধু ভোক্তা পর্যায়ের দাম নয়, এলপিজির সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের চার্জ পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণ, পরিবেশক বা ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ বৃদ্ধি, খুচরা বিক্রেতা বা রিটেইলার চার্জ পুনর্নির্ধারণ, সরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারীদের অন্য প্রস্তাবিত চার্জ পর্যালোচনা। এসব চার্জ শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এলপিজি আমদানি থেকে শুরু করে মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবহন ও বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় যুক্ত হয়। ফলে প্রতিটি খাতে কী পরিমাণ ব্যয় গ্রহণযোগ্য, তা নির্ধারণ করা গণশুনানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
এলপিজির বাজারে ভোক্তাদের অন্যতম অভিযোগ হলো, বিইআরসি নির্ধারিত দামে অনেক জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, নির্ধারিত দাম ও বাজারে প্রচলিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান অনেক। এটি সব সময় চলে আসছে। নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর ঘোষিত সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় ও প্রযোজ্য মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে ভোক্তা পর্যায়ের দাম পুনর্র্নিধারণ করা হয়। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির মূল্য পুনর্র্নিধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন চার্জ পরিবর্তনের প্রস্তাব কমিশনে জমা পড়েছে। আইন অনুযায়ী এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়ার জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই দেশের বাজারে সমান হারে দাম বাড়বে, এমন নয়। আমদানি ব্যয়, স্থানীয় পরিচালন ব্যয়, প্রযোজ্য চার্জ এবং কমিশনের নির্ধারিত মূল্য কাঠামো বিবেচনায় চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হবে। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। স্থান রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল অডিটোরিয়াম। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য ২৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত বক্তব্য বা মতামত পাঠাতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাম নিবন্ধন করতে বলা হয়েছিল। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তাদের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারবে। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন, সাধারণ ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও মূল্য ও চার্জ পুনর্র্নিধারণের বিষয়ে মতামত দিতে পারবে।
এলপিজির মূল্য পুনর্র্নিধারণে একদিকে আমদানি ও পরিচালন ব্যয়ের বাস্তবতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা- দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানিগুলো যদি ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তিতে দাম বাড়ানোর দাবি করে, তাহলে সেই ব্যয়ের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মুনাফা ও বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাবের পেছনের হিসাবও স্বচ্ছ হওয়া দরকার। বিশেষ করে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ থাকলে নতুন মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় কমিশনের নির্ধারিত দাম ও প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান থেকেই যেতে পারে। এছাড়া সরকারি এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও গণশুনানির আলোচনায় আসবে। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের মূল্য ও চার্জের ক্ষেত্রে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি এখন দেখার বিষয়।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, কাল গণশুনানি, আজ কোনো কমেন্ট করা মানে ইনফ্লুয়েন্স করা। আমি একটি প্রাইসিং প্রস্তাব করেছি, বিইআরসি সেই প্রাইসিং করবে এমন কোন কথা নেই। আমরা যেদিন প্রাইসিং প্রস্তাব দিয়েছি সেদিন ডলারের মূল্য ১২২ টাকা ছিল, গতকালকে ছিল ১২৪ টাকা। তিন বছর আগে ডলারের প্রাইস ছিল ৮৪ টাকা, এখন দাম ৫০ শতাংশ বাড়ছে। এজন্য তো আমরা রেসপন্সিবল না।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, যে কেউ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করতেই পারে। তবে তা বিইআরসি আমলে নেবে কি না সেটাই দেখার বিষয়। যে যুক্তিতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে তা অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য। দাম বাড়ানো একটি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে কোনো গ্রহণযোগ্যতা-যৌক্তিকতা ছিল না। তখন বিইআরসি ইচ্ছামতো একটা দাম নির্ধারণ করেছে। বিইআরসি যদি দাম বাড়ায় তাহলে তাদের আইন থেকে বিচ্যুত হয়েই বাড়াবে। তারা ন্যায্যতার দিকে হাঁটছে না।


