নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিজিটাল যুগে তথ্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তেই। তবে তথ্যের এই অবাধ প্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও। তাই সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ, অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’Ñএ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তথ্য জানা ও পাওয়ার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি দপ্তরগুলোতে জনগণের তথ্য পাওয়ার সুযোগ সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে। সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্বও কমবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখেই যাচাই-বাছাই ছাড়া তা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে তা ব্যবহার করতে হবে। অপতথ্য প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, তথ্য অধিকার আইন জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সুসংহত করেছে। তবে শুধু তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেই হবে না, প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দেবাশীষ কুমার, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং সাংবাদিক বিপুল আশরাফ।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে আগের তুলনায় মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। ফলে তথ্যের উৎস ও সত্যতা যাচাই এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোর নোটিশ বোর্ডে নিয়মিত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হলে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্য হালনাগাদ রাখা হলে জনগণকে একই তথ্যের জন্য বারবার আবেদন করতে হবে না। এতে তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের ওপর তথ্য চাওয়ার চাপও কমবে। তবে কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাওয়া হলে তা যেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। তারা বলেন, জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আলোচনায় আরও বলা হয়, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপতথ্যের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবির, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, সহকারী কমিশনার এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু, মীর্জা শহিদুল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সাজিদ হাসান, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


