আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসা নিতে টিকিটের মূল্য ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক পর্যালোচনা ও পরিদর্শন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা এবং হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা যেন হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। তাই দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের কথা বিবেচনায় রেখে সেবার পরিবেশ উন্নত করা, রোগীদের ভোগান্তি কমানো এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। হাসপাতালের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে আগের ৭ টাকার পরিবর্তে টিকিটের মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সহজ করা যায় এবং হাসপাতালের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজনÑএসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে চিকিৎসাসেবা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর লক্ষ্য হিসেবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং রোগীদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত পর্যালোচনা, জবাবদিহি এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আরও কার্যকর সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।


