নিজস্ব প্রতিবেদক:
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে তিনি পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পূজার আয়োজন, সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে দুর্গাপূজা চলাকালে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধন অটুট রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান। পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান পুলিশ সুপার। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ১১৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিদর্শনকালে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। ধর্মীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও সবার অংশগ্রহণে আনন্দময় করে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় মানুষের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।


