আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা উপজেলার বড়পুটিমারিতে একটি সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ২০ গ্রামের ২২ হাজারের বেশি মানুষ। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। সেতুটি ব্যবহার করতে না পেরে চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা শহরে যেতে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন কাজ করার পর দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়পুটিমারি গ্রামের পুরোনো সেতুটিতে প্রায় ছয় বছর আগে ফাটল দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেটি ভেঙে পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
প্রকল্প অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানো হলেও নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ২৯ মাসে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ফলে বর্ধিত সময়ের মধ্যেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উইকেয়ার প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট (পিসি) গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটি পেয়েছে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মইনুদ্দিন বাঁশি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি এ অঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। ছোট-বড় যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারে নেয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সেতুটি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে সেতুটি চলাচলের উপযোগী না থাকায় এসব কাজে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন বলেও জানান তারা। নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের অভিযোগ, সেতুর কাজে ব্যবহৃত কিছু রডে মরিচা দেখা গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মেজবাহুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


