নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাঠজুড়ে খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস, গ্যালারিতে দর্শকদের করতালি আর কাবাডির চিরচেনা উত্তেজনাÑএমন প্রাণবন্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে ‘১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। জেলার পাঁচ থানার অনূর্ধ্ব-২০ বালক-বালিকা দলকে নিয়ে তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স মাঠে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, পুলিশ সদস্য ও আমন্ত্রিত দর্শকদের উপস্থিতিতে পুলিশ লাইন্স মাঠ পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। প্রতিযোগিতায় চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, জীবননগর, দামুড়হুদা ও দর্শনা থানার অনূর্ধ্ব-২০ বালক-বালিকা কাবাডি দল অংশ নিচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার ও আমন্ত্রিত অতিথিরা মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও খেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মাঠে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও দর্শক করতালির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন। উদ্বোধক ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, কমিউনিটি পুলিশের মূল লক্ষ্য হলো পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু শারীরিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনা। মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, আমি আশা করি, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার যুবসমাজ আরও সুশৃঙ্খল হবে। আমরা সবাই মিলে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলতে পারব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলাইমান, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই-অ্যাডমিন) আমিরুল ইসলাম এবং পুলিশ লাইন্সের আরআই আব্দুস সামাদ।
বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম এ ধরনের আয়োজনের জন্য জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রকিবুল ইসলাম। উদ্বোধনের পর মাঠে গড়ায় প্রতিযোগিতার খেলা। প্রথম ম্যাচেই জীবননগর থানা দলকে ৩৮-৩৩ পয়েন্টে হারিয়ে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে একটি দল। দিনের অপর দুই ম্যাচে দামুড়হুদা থানা ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানা দল জয় পায়। প্রথম দিনের খেলাকে ঘিরে মাঠে ছিল দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ। খেলোয়াড়দের দ্রুত আক্রমণ, প্রতিপক্ষের কোর্টে ঢুকে পয়েন্ট আদায়ের চেষ্টা এবং শেষ মুহূর্তের টানটান লড়াইয়ে বারবার করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুলিশ লাইন্স মাঠ।
তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় জেলার পাঁচ থানার অনূর্ধ্ব-২০ বালক-বালিকা দল অংশ নেয়ায় বিভিন্ন এলাকার তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক পরিচয় ও সৌহার্দ্যের সুযোগ। কাবাডির মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এর মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও সুস্থ বিনোদনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ায় এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।


