নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযানে পৃথক মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ। এর মধ্যে দুটি অভিযানে ৯টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। তাদের মধ্যে তিনজনকে সামারি ট্রায়ালের (তাৎক্ষণিক বিচার) জন্য আদালতে পাঠানো হলে আদালত দুজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের পৃথক দুটি মামলার তদন্তে পাওয়া দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সদর থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হিমেল রানার নেতৃত্বে একটি দল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মানিকডিহি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২০২৪ সালের একটি মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি আলামিন ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট করা মামলাটির এফআইআর নম্বর ২০ এবং জিআর নম্বর ১৭৭। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬ ও ১১৪ ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩/৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আলামিনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে সদর থানা-পুলিশের এসআই অনুজ কুমার সরকারের নেতৃত্বে সাতগাড়ি এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ২০২৪ সালের একটি মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি তরিকুল ইসলাম সবুজকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতগাড়ী নতুনপাড়া গ্রামের মজনুল হক পচার ছেলে এবং চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশের নথিতে। তরিকুলের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর করা মামলার এফআইআর নম্বর ১ এবং জিআর নম্বর ২০৩। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ১১৪ ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩/৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সদর থানা-পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে দুজনকে একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআই শরিয়তুল্লাহর নেতৃত্বে সিন্দুরিয়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল ভূলটিয়া গ্রামের বদরগঞ্জ-দর্শনা সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় ওমর আলীর পুকুরের সামনে পাকা সড়ক থেকে ৩টি ইয়াবাসহ কাজল আহমেদ (১৯) ও আল জাব্বিরকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাসনহাটি গ্রামে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ১০(ক)/৩৬(৫) ধারায় মামলা করে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠায়। শুনানি শেষে আদালত কাজল আহমেদকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলায় আল জাব্বিরকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, একই দিনে এসআই জুম্মান খানের নেতৃত্বে সদর থানা-পুলিশের আরেকটি দল গাইদঘাট দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। তানভীর রানা ওরফে সানের চায়ের দোকানের সামনে পাকা সড়ক থেকে হানিফ আলীকে (৪০) ৬টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাইদঘাট রেলপাড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে। পুলিশ উদ্ধার করা ইয়াবা জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করে এবং হানিফের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৩৬(৫) ধারায় মামলা করে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


