কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ২৪ বছর আগে গ্রাম ছেড়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের হাসান আলী পুটু (৪০)। দীর্ঘ দুই যুগের প্রবাসজীবন শেষে স্বজনদের আশা ছিল, এবার প্রিয় মানুষটি ফিরবেন হাসিমুখে। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হলো নির্মম বাস্তবতায়। আফ্রিকা থেকে হাসান আলী ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে হাসান আলীর মরদেহ তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে কালিয়াবকরী গ্রামের পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর আপনজনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের বদলে পরিবারকে করতে হয় শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি। হাসান আলী পুটু কালিয়াবকরী গ্রামের মৃত উসমান গনির ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে জীবিকার সন্ধানে আফ্রিকায় পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ ২৪ বছর সেখানেই প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। সেখানে বিয়েও করেছিলেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ সঞ্চয় করছিলেন। স্বপ্ন ছিল জীবনের সঞ্চয় আর প্রিয়জনদের নিয়ে একদিন দেশে ফিরে নতুন করে সংসার সাজাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে আফ্রিকায় আকস্মিক স্ট্রোকে মারা যান হাসান আলী। তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসান আলী ছিলেন শান্ত ও ভালো স্বভাবের মানুষ। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন না। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও নিজের গ্রাম ও স্বজনদের প্রতি তার টান ছিল। দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ছিল তার। স্বজনেরা আশা করেছিলেন, ২৪ বছরের প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে এবার তিনি স্থায়ীভাবে দেশে ফিরবেন। কিন্তু যে ফেরার অপেক্ষায় ছিল পরিবার, সেই ফেরা এল শোকের বার্তা হয়ে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে তার প্রবাসজীবনের দীর্ঘ বিচ্ছেদ। পরিবারের জন্য, আপনজনদের জন্য এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণের জন্য দুই যুগ দেশের বাইরে কাটিয়েছেন হাসান আলী। এই দীর্ঘ সময়ে মা-বাবাসহ পরিবারের অনেক আপনজন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের শেষ দেখাটুকুও দেখতে পারেননি তিনি। প্রবাসের দূরত্ব তাকে আপনজনদের শেষ বিদায় থেকেও বঞ্চিত করেছে। আর এখন সেই প্রবাসজীবনের শেষ প্রান্তে তিনিই ফিরলেন নীরব কাঠামোয়। যে মানুষটি একদিন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম ছেড়েছিলেন, ২৪ বছর পর তার ঘরে ফেরার দৃশ্য হয়ে উঠল স্বজনদের কান্নায় ভারী।


