নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতা, সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে চুয়াডাঙ্গায় চলছে সাত দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে নজরুল উৎসব। উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও একক অভিনয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চ। নজরুলের কালজয়ী গান ও সৃষ্টিকর্মের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবেশনায় ফুটে ওঠে কবির জীবনবোধ ও সৃজনশীলতার নানা দিক। শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকেরা।
‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করে আলমডাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদ ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। দুই প্রতিষ্ঠানের শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুলসংগীতের পাশাপাশি অন্যান্য গান, নৃত্য ও অভিনয় পরিবেশিত হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল নজরুলের গানসহ বিভিন্ন সংগীত। ওস্তাদ রেজাউল করিম, কমলকান্তি চক্রবর্তী, সাহাবুল হক, আশরাফুল হক পান্না, আয়েশা খাতুন, রুহুল আমিন ও আতিক বিশ্বাস গান পরিবেশন করেন। তাঁদের কণ্ঠে ‘সই ভালো করে বিনোদবেণী’, ‘পদ্মার ঢেউ রে’, ‘আসে বসন্ত কূলবনে’ ও ‘শুকনো পাতার নূপুর বাজে’সহ বিভিন্ন গান পরিবেশিত হয়। একের পর এক গানে কবির সৃষ্টির বৈচিত্র্য ও বাংলা সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরেন শিল্পীরা। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় ছিল একক সংগীত, নৃত্য ও অভিনয়। শিশু শিল্পী আবরার খান অর্ক ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মোহ’ গানটি পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে। মাসুদ রানা পরিবেশন করেন ‘হারানো হিয়া নিকুঞ্জ পথে’, মো. খলিলুর রহমান গেয়ে শোনান ‘আমি যদি আরব হতাম’ এবং পূর্ণিমা সাহা পরিবেশন করেন ‘আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া’।
একক অভিনয়ে অংশ নেন সুমাইয়া আক্তার। এছাড়া রাবিয়া সুলতানা এশা ও পূর্ণতার নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। সংগীত, নৃত্য ও অভিনয়ের সমন্বয়ে সদর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনা হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময়। পুরো পরিবেশনার সমন্বয় করেন একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক মাসুদ রানা লিটন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রী, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, জেলা জাসাসের সভাপতি সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, সহসভাপতি তৌফিকুজ্জামান তৌফিক, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন জোয়ার্দার সোনা এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হাসান টুটুলসহ অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বছরব্যাপী নজরুল উৎসব আয়োজনের ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসগুলোতেও জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জাসাসের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।
জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসবের মধ্য দিয়ে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাত দিনের এ আয়োজনের প্রতিটি দিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় নজরুলের গান, সাহিত্য ও জীবনদর্শনকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিরণ উর রশীদ শান্ত।
নজরুল উৎসবের তৃতীয় দিনের আয়োজন হবে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে। এতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে দামুড়হুদা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। একই আয়োজনে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংসদের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনায় নাটক ‘নীলকুঠি’। নাটকটির নির্দেশনায় থাকবেন নজির আহমেদ। গান, নৃত্য ও নাটকের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে দর্শকদের পরিচিত করার ধারাবাহিকতায় আজকের আয়োজনেও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি নাটকটি দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।


