নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার ডাক বিভাগের অবস্থা অনেকটা খুঁড়িয়ে চলার মতো। জেলার ৭৪টি পোস্ট অফিসের মধ্যে ৫১টিরই নিজস্ব ভবন নেই। কোথাও অন্যের দোকানে, কোথাও ভাড়া করা কক্ষে, আবার কোথাও পোস্টমাস্টারের নিজের বাড়িতে চলছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনবলসংকট। প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন অফিসে প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকায় ডাক বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা।
একসময় মানুষের যোগাযোগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। চিঠিপত্র আদান-প্রদান থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানোÑবহু কাজে মানুষের আস্থার জায়গা ছিল পোস্ট অফিস। সময়ের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও স্পিড পোস্টসহ বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলের অভাবে চুয়াডাঙ্গায় এই সেবা কতটা আধুনিক ও গতিশীল করা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদরসহ জেলার চারটি উপজেলায় মোট ৭৪টি পোস্ট অফিসের শাখা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৩টি নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকি ৫১টি শাখার নিজস্ব ভবন নেই। এসব পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে অন্যের দোকান, ভাড়া করা জায়গা কিংবা পোস্টমাস্টারের ব্যক্তিগত বাড়িতে।
দামুড়হুদা উপজেলার চন্দ্রবাস পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার আক্তার ফারুক বলেন, আগে অনেক পোস্ট অফিস জমিদারবাড়ির ভবনে পরিচালিত হতো। বর্তমানে সরকারি নিজস্ব জমি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থায়ী জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন একটি স্কুলের পাশের ভবনে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চালিয়েছেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবনটি ফিরিয়ে নিলে নিজের বাড়িতেই পোস্ট অফিসের কাজ করতে হচ্ছে তাকে।
পোস্টমাস্টারের নিজের বাড়িতে সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার এ বাস্তবতা ডাক বিভাগের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার একটি চিত্র তুলে ধরে। নিজস্ব ভবন না থাকায় কোনো কোনো শাখাকে বিকল্প জায়গার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে দাপ্তরিক পরিবেশ, সেবার পরিসর ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা ডাক বিভাগে রয়েছে জনবলসংকট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান কার্যালয়ে অফিস সহায়কের মতো পদে এবং বিভিন্ন অফিসে রানার ও পিওনসহ প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক কর্মী দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ডাক বিভাগের সেবার পরিধি বাড়াতে শুধু ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ, দাপ্তরিক সরঞ্জাম এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনারও প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব শাখায় নিজস্ব ভবন নেই, সেগুলোকে স্থায়ী ঠিকানায় স্থানান্তর এবং সেবার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
চুয়াডাঙ্গা ডাক বিভাগের প্রধান পোস্টমাস্টার রবিউল হক বলেন, জেলার ৭৪টি পোস্ট অফিসের মধ্যে ২৩টির নিজস্ব ভবন রয়েছে। অন্যগুলো অন্যের দোকান, ভাড়া করা জায়গা কিংবা পোস্টমাস্টারের নিজের বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আগের তুলনায় ডাক বিভাগের কার্যক্রম এখন অনেক ভালো। গুরুত্বপূর্ণ ডাক এখনো পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আসে। স্পিড পোস্টও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠান থেকে আরও বেশি রাজস্ব আয় করা সম্ভব। তবে সে জন্য নিজস্ব জায়গায় ভবন নির্মাণ করা জরুরি। রবিউল হক আরও বলেন, ডাক বিভাগের বিভিন্ন পদে জনবল শূন্য থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। সরকারের কাছে তাদের দাবি, পোস্ট অফিসগুলোর নিজস্ব জায়গায় ভবন নির্মাণের পাশাপাশি ডাক বিভাগকে ডিজিটাল ও আধুনিক সেবায় সমৃদ্ধ করা হোক। এতে জনগণ আরও উন্নত সেবা পাবেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।
ডাক বিভাগের সেবা এখন আর শুধু চিঠিপত্র আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ নয়। স্পিড পোস্টসহ বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি নথি ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী পাঠানোর ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেবার মান বাড়াতে অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


