নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় হঠাৎ ঝড়ে প্রায় ৮ হেক্টর জমির কলা, পেঁপে, ফলজ ও সবজির বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রবল বাতাসসহ ঝড়ের আঘাতে কলাগাছ ও পেঁপেগাছ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সবজির ক্ষেতেরও ক্ষতি হয়েছে। এতে ফসল উৎপাদনে বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বেলগাছি, মাখালডাঙ্গা, দীননাথপুর, কুকিয়া চাঁদপুর ও গাইদঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। অনেক স্থানে কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। কোথাও উপড়ে গেছে পেঁপেগাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মরিচ, ধান, শিমসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেতও। দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা গাছ ও ফসল অল্প সময়ের ঝড়ে নষ্ট হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঝড়ে প্রায় ৮ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফল ও সবজির বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিস্তারিত হিসাব পাওয়ার পর ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কলা, পেঁপে ও বিভিন্ন সবজি চাষে তাদের দীর্ঘদিন ধরে শ্রম দিতে হয়েছে। জমি প্রস্তুত করা, চারা ও সার কেনা, সেচ, পরিচর্যা এবং শ্রমিকের মজুরিসহ নানা খাতে অর্থ ব্যয় করেছেন তারা। অনেক কৃষক ধারদেনা করে কিংবা নিজেদের সঞ্চয় ভেঙে চাষাবাদ করেছেন। ফসল সংগ্রহের সময় যখন ঘনিয়ে আসছিল, তখনই ঝড় তাদের সেই আশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ কিংবা ফলের গাছ ভেঙে পড়া মানে শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কয়েক মাসের পরিশ্রম, বিনিয়োগ এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা। একসঙ্গে অনেক গাছ ও ফসল নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলে আনা তো দূরের কথা, নতুন করে চাষাবাদ চালিয়ে নেয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তা, নতুন করে চাষাবাদে সহযোগিতা এবং কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


