নেহালপুর প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে এসে মানুষের আঘাতে আহত হয়েছে একটি গন্ধগোকুল। পরে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে প্রাণীটি বেঁচে থাকবে কী-না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গন্ধগোকুলের একটি দল প্রায়ই গ্রামের বাড়িতে ঢুকে কবুতর ও মুরগির বাচ্চা ধরে নিয়ে যায়। এ কারণে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রাণীটির সংঘাত তৈরি হয়েছে। গতকাল রবিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবারের সন্ধানে গন্ধগোকুলের একটি দল প্রায়ই গ্রামটির বিভিন্ন বাড়িতে যাতায়াত করে। এ সময় তারা বাড়ির কবুতর ও মুরগির বাচ্চা ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গতকালও খাবারের সন্ধানে একটি গন্ধগোকুল লোকালয়ে এলে কয়েকজন শিশু ও বাড়ির নারীরা সেটিকে আঘাত করেন। পরে গ্রামের কয়েকজন যুবক তাদের কাছ থেকে প্রাণীটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন।
সংগঠনটির সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু বলেন, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধার করা প্রাণীটি এশিয়ান পাম সিভেট। স্থানীয়ভাবে এটি তাল খাটাশ, ভাম বা খাটাশ নামে পরিচিত। প্রাণীটি আহত হওয়ায় ভেটেরিনারি সার্জন নাহিদ ইসলামের পরামর্শ অনুযায়ী সংগঠনের সদস্য ও পল্লি প্রাণিচিকিৎসক হাসানুজ্জামান রিগান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। আহসান হাবীব শিপলু আরও বলেন, গন্ধগোকুল বর্তমানে ব্যাপক আবাসস্থল সংকটে রয়েছে। একসময় এসব প্রাণীর বিচরণ ও শিকারের উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকলেও এখন সেই সুযোগ ক্রমেই কমছে। মাঠের পর মাঠ সংরক্ষিত চাষাবাদের আওতায় আসায় প্রাণীগুলোর স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। ফলে খাবারের সন্ধানে বাধ্য হয়ে তারা লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে মানুষের সঙ্গে সংঘাত বাড়ছে। প্রাণীটির বেঁচে থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আহসান হাবীব শিপলু বলেন, আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা প্রাণীগুলো আজ খুব অসহায়। আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না, প্রকৃতির এসব প্রাণী বেঁচে থাকলে আমরাও ভালো থাকব। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসার সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য শেখ সাদি, বায়জিদ, নাঈম, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। এদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গায় আরেকটি গন্ধগোকুলের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গন্ধগোকুল অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে মারা যায়। পরপর দুটি গন্ধগোকুলের ঘটনায় জেলার বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা ও আবাসস্থল সংকটের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাদ্যসংকটের কারণে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করলে মানুষের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং আহত প্রাণী উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


