নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক দুই অভিযানে ৬০৫ গ্রাম গাঁজা ও ৯টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত রবিবার ও সোমবার জেলার জীবননগর ও সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান চালানো হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জেলার জীবননগর থানা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মহানগর উত্তরপাড়া এলাকার নাসির (২৫) এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলারমোড় এলাকার ফারুক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নাসিরের কাছ থেকে একটি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ফারুক আলীর কাছ থেকে পাঁচ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে নাসিরকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। ফারুক আলীকেও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর একদিন পর ২১ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় ডিএনসি। এ অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাখালী দক্ষিণপাড়া গ্রামে আব্বাস আলীর (৫৫) বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক মূল্য ২৪ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে ডিএনসি। ঘটনাস্থল থেকে আব্বাস আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নুরনগর কলোনীপাড়ার মিনারুল ইসলাম (২৬), তারিখ আজিজ (২৩) ও সোহেল হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মিনারুলের কাছ থেকে একটি, তারিখ আজিজের কাছ থেকে ছয়টি এবং সোহেল হোসেনের কাছ থেকে একটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় অভিযানে ৬০০ গ্রাম গাঁজা ও আটটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডিএনসির পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজের মাধ্যমে দ্বিতীয় অভিযানে গ্রেপ্তার তিন আসামির দণ্ড দেয়া হয়। মিনারুল ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, তারিখ আজিজকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং সোহেল হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।


