আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজস্বাস্থ্যডেঙ্গুর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় আবারও বাড়ছে হাম

ডেঙ্গুর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় আবারও বাড়ছে হাম




নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডেঙ্গুর সংক্রমণের মধ্যেই চুয়াডাঙ্গায় আবারও বাড়ছে হামের উপসর্গ। নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসার পর শিশুদের শরীরে দেখা দিচ্ছে হামের লক্ষণ। এতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র শয্যাসংকট। ২২ শয্যার এই ওয়ার্ডে বর্তমানে বিভিন্ন সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ১৩০ শিশু। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল ২০ শিশু।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচটি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হচ্ছে। চলতি বছরে চুয়াডাঙ্গায় এখন পর্যন্ত ৭১২ শিশু হামের চিকিৎসা নিয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর দিকে মারা গেছে তিন শিশু। অন্যদিকে হাসপাতালটিতে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে আরও আটজন। ফলে একই সময়ে হাম ও ডেঙ্গুÑদুই সংক্রমণের চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালটিকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট্ট শিশুদের কান্না আর স্বজনদের ব্যস্ততায় মুখর ওয়ার্ডটি। নির্ধারিত শয্যাগুলোর পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দাতেও শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। কারও শরীরে হামের লালচে ফুসকুড়ি, কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, আবার কেউ ঠান্ডা-জ্বরসহ নানা সংক্রমণে কাতর। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকায় একেকটি শয্যায় একাধিক রোগীকেও থাকতে হচ্ছে বলে স্বজনেরা জানান। হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে রোগীর স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, শিশু ওয়ার্ডের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে। একদিকে হামের সংক্রমণ, অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপÑএ অবস্থায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। চুয়াডাঙ্গায় চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ৩০৫ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল। জেলার চারটি উপজেলা ও চারটি পৌর এলাকার আটটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৯৮০টি কেন্দ্রে বিনামূল্যে এ টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে টিকা নেয়ার পরও কিছু শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছয় বছর বয়সী ইন্তিয়া খাতুনের মা রাবেয়া আক্তার জানান, হামের টিকা দেয়ার পরও কয়েক মাস পর তার মেয়ের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাবেয়া আক্তার বলেন, হাম শুরু হওয়ার আগেই মেয়েকে টিকা দিয়েছিলাম। এরপর কয়েক মাস পর হামের উপসর্গ দেখা দেয়। এখন চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা ভালো পেলেও বেড না থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। আরেক শিশুর মা পলি খাতুন বলেন, প্রথমে তার মেয়ের ঠান্ডা-জ্বর হয়। পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। এখন সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি উঠেছে। তিনদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও শিশুটি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
রোগীর স্বজন কামাল হোসেন বলেন, তার নাতির প্রথমে ঠান্ডা-কাশি ও পরে নিউমোনিয়া হয়। এরপর হামের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হলেও বেড না থাকায় মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, হাসপাতালের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। আরেক স্বজন জাহানারা খাতুন বলেন, শিশু ওয়ার্ডের চারপাশ অপরিষ্কার। মশার উপদ্রবও বেশি। হামের মধ্যে আবার ডেঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।
রোগীর চাপের সঙ্গে জনবল সংকটও হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসাসেবায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স বেবি আক্তার বলেন, ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগী কয়েক গুণ বেশি। মাত্র দুজন নার্স দিয়ে এত রোগী সামলানো অত্যন্ত কঠিন। তারপরও তারা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই কম লোকবল দিয়ে এত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, টিকাদান কর্মসূচির পর হামের প্রকোপ কিছুটা কম ছিল। তবে আবারও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের টিকাদানের কার্যকারিতা প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকায় ছোট-বড়দের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে হাম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই প্রথমে ঠান্ডা-জ্বর, কাশি বা নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয়ার পর চিকিৎসকেরা হামের কথা বলছেন। সাম্প্রতিক একটি গবেষণাতেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের মধ্যে হামের সঙ্গে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এদিকে দেশে সামগ্রিকভাবেও হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। চলতি বছরে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে চলতি বছর দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল। ইউনিসেফও এ কর্মসূচিকে শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে একই সঙ্গে হামের উপসর্গ, নিউমোনিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ায় শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা পৃথক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসক-নার্সদের জনবল বাড়ানো, শয্যাসংকট দূর করা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রোগীর স্বজনেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ