নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় নতুন করে ৪৫ জন সার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশ বিএনপির নেতাকর্মী অথবা তাদের পরিবারের সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সংশ্লিষ্ট পত্র ও প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় এসব ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জেলায় ডিলারশিপ পেতে মোট ৬৪২টি আবেদন জমা পড়েছিল। ইউনিয়ন ও পৌরসভাভিত্তিক চূড়ান্ত তালিকায় প্রথম ক্রমিক নম্বরে থাকা ৪৫ জনকে ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষরিত স্মারক নম্বর ২৬-১৯৩-এর পত্রে এ নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ২৬-৭৮৪ নম্বর স্মারকের আলোকে প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি করে ডিলারশিপ চূড়ান্ত করে পাঠানো হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়ায় তালিকার প্রথম ক্রমিক নম্বরে থাকা আবেদনকারীদের ডিলারশিপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে ৬৪২টি আবেদনের মধ্যে কী কী মানদণ্ডে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে, আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতি কী ছিল এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি কীÑএসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় নতুন সার ডিলার হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় লিপটন ট্রেডার্সের মনিরুজ্জামান লিপ্টন, গড়াইটুপিতে আকতার এন্টারপ্রাইজের আকতার হোসেন, তিতুদহে খান ট্রেডার্সের রকিবুল হাসান, নেহালপুরে মেসার্স এম এম জি এন্টারপ্রাইজের ফারজানা ইয়াসমিন মেঘলা, পদ্মবিলায় মেসার্স সম্পদ এন্টারপ্রাইজের মাসুদ রেজা, মোমিনপুরে আশিক ট্রেডার্সের আশিকুর রহমান, শংকরচন্দ্রে মেসার্স ফাহিম মুনতাছির ট্রেডিংয়ের ফাইম মুনতাছির, মাখালডাঙ্গায় ইসলাম এন্টারপ্রাইজের শাহীন আলম, আলুকদিয়ায় মেসার্স সরদার জোনাইদ ট্রেডার্সের জোনাইদ, কুতুবপুরে মেসার্স নূরুল ইসলাম ট্রেডার্সের আব্দুস সেলিম এবং বেগমপুরে মেসার্স আশাবুল হক ট্রেডার্সের আশাবুল হক রয়েছেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলায় ডিলারশিপ পেয়েছেন ১৬ জন। তারা হলেন আলমডাঙ্গা পৌরসভায় আজিজুর রহমান পিন্টু, ভাংবাড়িয়ায় মেসার্স এস. টি. আর. ট্রেডার্সের বেগম মেহেরুন্নেছা, হারদীতে মনির ট্রেডার্সের মনিরুল ইসলাম, কুমারীতে মেসার্স অনিক এন্টারপ্রাইজের শারমীন আক্তার লিপি, বাড়াদীতে মেসার্স তানজিল ট্রেডার্সের তানজিল আহমেদ, গাংনীতে মেসার্স আমান এন্টারপ্রাইজের আমান উল্লাহ, খাদিমপুরে মেসার্স তারিন এন্টারপ্রাইজের আসাদুজ্জামান, জেহালায় মেসার্স আদনান ট্রেডার্সের আমিনুল হক রোকন, বেলগাছিতে সাকিব সাফি এন্টারপ্রাইজের ঝন্টু মিয়া, ডাউকিতে মেসার্স আব্দুল জাব্বার ট্রেডার্সের শাহিনা আক্তারি, জামজামিতে মেহেদী ট্রেডার্সের মেহেদী হাসান, নাগদাহে মেসার্স মারজান ট্রেডার্সের আওয়ালুজ্জামান, খাসকররায় মেসার্স বিপাশা ট্রেডার্সের সাইদুর রহমান, কালিদাসপুরে এমদাদুল হক ডাবু এন্টারপ্রাইজের শাহানা পারভীন, চিৎলায় মেসার্স পাপেন ট্রেডার্সের রাজিব ফেরদৌস এবং আইলহাঁসে মেসার্স মা ট্রেডার্সের সেলিম হোসেন।
দামুড়হুদা উপজেলায় নতুন ডিলার হয়েছেন ৯ জন। তাদের মধ্যে দর্শনা পৌরসভায় মেসার্স মাহির ট্রেডার্সের হাবিবুর রহমান বুলেট, জুড়ানপুরে মেসার্স ইদ্রিস ট্রেডার্সের ইদ্রিস আলী, নতিপোতায় মেসার্স এ.টি.এল. ট্রেডার্সের কামরুজ্জামান, কার্পাসডাঙ্গায় মেসার্স মুবিন এন্টারপ্রাইজের জুলফিকার আলী, কুড়ুলগাছিতে মেসার্স শাওন ট্রেডার্সের আব্দুল হাকিম, পারকৃষ্ণপুর-মদনায় মেসার্স আনারুল ট্রেডার্সের আনারুল ইসলাম, হাউলীতে সুমন ট্রেডার্সের মোস্তাফিজুর রহমান, দামুড়হুদায় মেসার্স প্রাইম ইন্টারন্যাশনালের রফিকুল হাসান তনু এবং নাটুদহে মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের মিজানুর রহমান রয়েছেন।
জীবননগর উপজেলায় ডিলারশিপ পেয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন জীবননগর পৌরসভায় মালিথা ট্রেডার্সের শফি উদ্দীন, সীমান্ত ইউনিয়নে আফরা ট্রেডার্সের আল মারুফ, মনোহরপুরে মেসার্স আফ্রিদি ফার্টিলাইজারের সাইদ আফ্রিদি, কেডিকেতে পদ্মা ট্রেডিংয়ের রফিউল আলীম, উথলীতে মেসার্স সাদ এন্টারপ্রাইজের সাইফুল ইসলাম, বাঁকা ইউনিয়নে মেসার্স তন্ময় এন্টারপ্রাইজের শাহিন উদ্দিন, হাসাদহে জুয়ায়েদ ট্রেডার্সের আব্দুল্লাহ আল মামুন, রায়পুরে এগ্রো কেয়ার সলিউশনের আনিছুজ্জামান এবং আন্দুলবাড়িয়ায় তাসরিন ট্রেডার্সের তাসরিন আক্তার।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পত্রে বলা হয়েছে, নতুন ডিলারশিপ আপাতত অস্থায়ীভাবে দেয়া হবে। ডিলারশিপ পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন মাস সংশ্লিষ্ট ডিলারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। এ সময়ে কার্যক্রম সন্তোষজনক মনে হলে পরে ডিলারশিপ স্থায়ী করা হবে। এছাড়া ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’-এর ৭.০ ও ৮.০ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত শর্তাবলী ও নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের কথা বলা হয়েছে। ডিলার নিয়োগ ও বাতিলের বিষয়ে সার ডিলার-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে পত্রে উল্লেখ রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আদেশটি জারি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যারা সার ডিলারশিপ পাননি, তাদের জমা দেয়া ১০ হাজার টাকা আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফেরত দেয়া হবে বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে টাকা ফেরতের নির্দিষ্ট তারিখ, পদ্ধতি ও আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


