উথলী প্রতিবেদক:
জীবননগর উপজেলার উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও শারীরিক-মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ম্যাচে মুখোমুখি হয় শিক্ষক একাদশ ও শিক্ষার্থী একাদশ। খেলা ঘিরে বিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষক একাদশ। দলের নেতৃত্ব দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নওশাদ আলী। নির্ধারিত ১০ ওভারে শিক্ষক একাদশ সংগ্রহ করে ১৩৫ রান। জয়ের জন্য ১৩৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শিক্ষার্থী একাদশ ৮০ রানেই গুটিয়ে যায়। ফলে শিক্ষক একাদশ ৫৫ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে।
খেলার আগে প্রধান শিক্ষক নওশাদ আলী বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ও মন প্রফুল্ল থাকে। এতে পড়াশোনার প্রতিও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ ধরনের প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন আয়োজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে সহায়তা করবে। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে কিংবা কোনো বিষয় বুঝতে গিয়ে জড়তায় ভোগে। মাঠে একসঙ্গে খেলাধুলা করার মাধ্যমে সেই জড়তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা আরও সহজে শিক্ষকদের কাছে তুলে ধরতে পারবে।
বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মাদক ও অনলাইন গেমে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নওশাদ আলী। তিনি বলেন, খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এসব ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় মনোনিবেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং তাদের সুস্থ ও ইতিবাচক জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে।
ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অহিদুল হক স্বপন ও ক্রীড়া শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে ম্যাচটি বিদ্যালয়জুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি করে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সৌহার্দ্য ও আনন্দের পরিবেশ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপভোগ করেন পুরো ম্যাচটি।
জীবননগরের হাসাদাহে ঋণের জামিনদার হয়ে মামলায় দিনমজুর
হয়রানি থেকে মুক্তি ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি মতিয়ার রহমানের
হাসাদাহ প্রতিনিধি: জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের কাটাপোল গ্রামের মতিয়ার রহমান (৩৫) প্রতিবেশীর ঋণের জামিনদার হয়ে মামলার আসামি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। মামলার কারণে হয়রানি ও আর্থিক দুর্ভোগের শিকার হওয়ার দাবি করে এর প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে হাসাদাহ প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন মতিয়ার রহমান। তিনি কাটাপোল গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে মতিয়ার রহমান বলেন, একই এলাকায় বসবাসকারী আমিন মাস্টারের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লাল্টু ২০২৪ সালে জীবননগরের এসডিসি এনজিও থেকে তার স্ত্রী শেফালী খাতুনের নামে ছয় লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ নেয়ার সময় প্রতিবেশী হিসেবে এনজিওর ব্যবস্থাপক ও মোস্তাফিজুর রহমানের অনুরোধে তিনি ওই ঋণের জামিনদার হন। মতিয়ার রহমানের ভাষ্য, জামিনদার হওয়ার পর ঋণের টাকা পরিশোধের বিষয়ে তিনি আর কোনো খোঁজখবর রাখেননি। হঠাৎ ২০২৫ সালে ফরিদপুর আমলি আদালত থেকে তার কাছে একটি নোটিশ আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ঋণগ্রহীতা ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় জামিনদার হিসেবে তার বিরুদ্ধে ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ মামলা করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে জানতে তিনি এসডিসি এনজিওর ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান। তখন তাকে জানানো হয়, মোস্তাফিজুর রহমান ঋণের টাকা সময়মতো পরিশোধ করেননি এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় জামিনদার হিসেবে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মতিয়ার রহমান বলেন, ঋণগ্রহীতা মোস্তাফিজুর রহমান কোনো দিনই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাননি। তিনি এবং তার স্ত্রী শেফালী খাতুন এখনো বাড়িতেই বসবাস করছেন। এ অবস্থায় তাদের ‘পলাতক’ দেখিয়ে তার নামে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, ঋণগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট এনজিওর ব্যবস্থাপকের যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি কোনো নথিপত্র বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, আমি খেটে খাওয়া একজন সাধারণ দিনমজুর। মামলা চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। প্রতিবেশীর অনুরোধে শুধু জামিনদার হয়েছিলাম। অথচ এখন সেই ঋণের মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে মতিয়ার রহমান বলেন, ঋণগ্রহীতা ও তার স্ত্রী যদি বাড়িতেই থাকেন, তাহলে তাদের পলাতক দেখিয়ে জামিনদারের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হলো, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মতিয়ার রহমান তার বিরুদ্ধে করা মামলার কারণে সৃষ্ট হয়রানি থেকে মুক্তি এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।


