আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে এয়ার ফ্লো মেশিনসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে কৃষকদের হাতে এসব কৃষি উপকরণ তুলে দেয়া হয়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে , চলতি মৌসুমে আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১২ হাজার ২০০ শতক জমিতে পেঁয়াজের বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬৪০ শতক জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হয়েছে। এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ২০ জন পেঁয়াজচাষিকে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনের পর সংরক্ষণকালে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করায় অনেক সময় পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে সংরক্ষণাগারে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে পেঁয়াজের পচন কমবে, দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা যাবে এবং কৃষকেরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার , সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর হক পিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার বলেন, এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের ফলে পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকরা খুব উপকার পাবেন। পেঁয়াজ ভালোভাবে সংরক্ষণ করা গেলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার পরিমাণ কমবে। উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে এ মেশিনের ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে আরও জানানোর চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, শুধু এয়ার ফ্লো মেশিন নয়, কৃষকদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য কৃষি উপকরণ ও পরামর্শও প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেলগাছী গ্রামের কৃষক গোলাপ মিয়া বলেন, সরকারি এই সহায়তা আমাদের জন্য খুবই উপকারী। এতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে খরচ কমবে এবং লাভ বেড়ে যাবে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ২০ জন পেঁয়াজচাষিকে এই প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে এয়ার ফ্লো মেশিনসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেয়া হয়। উপকারভোগী কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন, বড়বোয়ালিয়া গ্রামের মিলন হোসেন, শফিকুল, জাহাঙ্গীর হোসেন, রবিউল, জমির আকবর। নগরবোয়ালিয়া গ্রামের ইসমাইল হুদা ও বদরুল হুদা, লক্ষ্মীপুর গ্রামের রাশিদুল, জাহাঙ্গীর আলম, মিজানুর ও দ্বীন মোহাম্মদ। কুয়াতলা গ্রামের সাইদুল, জমির, আইনাল, মজিবার, কিতাব, মামুন, আশরাফুল, হুমায়ুন ও রবিউল, ওসমানপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন, রুস্তম, মিরাজুল, বাহার, লোকমান ও বদর উদ্দিন এবং বেলগাছী গ্রামের গোলাপ মিয়া ও কুড়ুন শাহ্।


