আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর আবারও মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক মাদক মামলার আসামি মা ও মেয়ে। তাদের কাছ থেকে ৩০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন আলমডাঙ্গা শহরের স্টেশনপাড়া এলাকার মিনি খাতুন এবং তার মেয়ে মায়া খাতুন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন কলোনি এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানার এসআই আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই তাইজুল হক, এএসআই জামির আলীসহ পুলিশের একটি দল রেলস্টেশন কলোনি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিনি ও মায়া পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পুলিশের দাবি, আটকের সময় মিনি ও মায়া তাদের কাছে থাকা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বালির স্তূপের মধ্যে পুঁতে রাখার চেষ্টা করেন। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বালির স্তূপ থেকে ৩০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিনি খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। তার মেয়ে মায়া খাতুনের বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে মাদকসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তারা আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। চলতি বছরের শুরুর দিকে মিনি খাতুনকে একটি মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছিল। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই সাজা দেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন মিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিনি কথিত একটি সংবাদ সম্মেলনে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই মেয়েসহ আবারও মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলস্টেশন এলাকা ও এর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগের পরও একই ধরনের অভিযোগে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনা মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তাই তুলে ধরছে। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে বলেও তাদের অভিযোগ। মাদকসেবীদের অর্থের জোগান দিতে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে বলেও স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মিনি ও মায়ার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন। পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে মাদক ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে বলেও তাদের ভাষ্য। তবে এসব দাবি এবং অতীতের কিছু ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয় আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মা-মেয়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।


