আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজকৃষি ও পরিবেশগাংনীতে একাঙ্গীর ক্ষেতে পচন, পথে বসার শঙ্কায় কৃষক

গাংনীতে একাঙ্গীর ক্ষেতে পচন, পথে বসার শঙ্কায় কৃষক




গাংনী অফিস:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাঠজুড়ে ছড়িয়ে আছে সুগন্ধি ভেষজ ফসল একাঙ্গীর ক্ষেত। কিছুদিন আগেও সবুজ পাতায় ভরা এসব ক্ষেত ঘিরে ছিল কৃষকদের ভালো ফলনের স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ গোড়াপচা রোগে সেই স্বপ্নে ভাটা পড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একের পর এক খেতের গাছ হলুদ হয়ে ঢলে পড়ছে, মাটির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান একাঙ্গী। এতে কসবা ও জালশুকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
কৃষকদের দাবি, এক সপ্তাহের মধ্যে অনেক খেতের ফসল প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি দপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ অন্তত ৮ হেক্টর। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ হেক্টর হতে পারে। জমানো পুঁজি ও ধারদেনা করে ফসল আবাদে বিনিয়োগ করা কৃষকেরা এখন কীভাবে ঋণ শোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাঙ্গী ভেষজ ও মসলা জাতীয় একটি উচ্চমূল্যের ফসল। লাভের আশায় চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক চড়া দামে বীজ কিনে জমি তৈরি, সার ও কীটনাশকের পেছনে অর্থ ব্যয় করেছেন। ফসল ভালো হলে সেই বিনিয়োগ থেকে লাভের আশা ছিল তাদের। কিন্তু হঠাৎ গোড়াপচা রোগ দেখা দেয়ায় সেই আশা ভেঙে পড়েছে। আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, গাছ ঢলে পড়ছে। মাটির নিচে থাকা একাঙ্গীর অংশ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের পূর্বপাড়ার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, অনেক আশা করে ১০ শতক জমিতে একাঙ্গী চাষ করেছিলাম। ধারদেনা করে সার ও কীটনাশক দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ পচন ধরে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো ক্ষেত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছে না। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, আর পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, ভেবে পাচ্ছি না। একই গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন ও বদরুদ্দোজাও ফসলের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতো অনেক কৃষক ক্ষেত বাঁচাতে বারবার কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেছেন। তাতেও কাক্সিক্ষত ফল মেলেনি।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও একাঙ্গীর গাছ লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও গাছের গোড়া পচে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত থেকে পচা গাছ তুলে ফেলছেন কৃষকেরা। চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে তারা কৃষি দপ্তর থেকে কার্যকর তদারকি ও সঠিক দিক-নির্দেশনা পাননি। ফলে অনেকে বাজার থেকে কীটনাশক কিনে প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু রোগ নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাদের খরচ আরও বেড়েছে, ক্ষতিও কমেনি। ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারি প্রণোদনা, বিনা সুদে কৃষিঋণ এবং আগামী মৌসুমে বিনা মূল্যে বীজ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা না পেলে এ অঞ্চলে লাভজনক একাঙ্গী চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষকেরা। এতে ভবিষ্যতে ফসলটির আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের ধানখোলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাঈমুর রহমান বলেন, চলতি বছর একাঙ্গীর পচন রোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুরুর দিকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হলেও রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবকে তিনি এ ক্ষতির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কসবা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিন রেজা জুয়েল ও গাড়াডোব ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনও একই ধরনের মত দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া বলেন, অনেক কৃষক বীজ বপনের আগে বীজ শোধন করেন না। আবার কেউ কেউ উপযুক্ত জমি নির্বাচন না করে নিচু জমিতে একাঙ্গী চাষ করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে রোগজীবাণুর আক্রমণে এবার ফসল পচে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং মাটিতে ছত্রাকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় একাঙ্গীর ক্ষেতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর থেকে কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছেন। রোগের বিস্তার ঠেকাতে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা যায়। পাশাপাশি বিষয়টি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রোগতত্ত্ববিদদের জানানোরও চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ