নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে সাত বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে মোস্তাক হোসেন (৩২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই যুবক গোপনে অন্যত্র বিয়ে করেছেন জানতে পেরে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে যান তরুণী। এ সময় মোস্তাক ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার হাতে বিষের বোতল দিয়ে বিষ পান করে মারা যেতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তরুণীর মা। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার মাধবখালী গ্রামের বটতলাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী বটতলাপাড়ার এক তরুণী ও একই এলাকার মোস্তাক হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর মায়ের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মোস্তাক প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তার মেয়েকে নিজের বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে বিয়ের কথা বললে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি। তার অভিযোগ, সম্প্রতি বিয়ের জন্য চাপ দিলে মোস্তাক একটি সাদা কাগজে তার মেয়ের স্বাক্ষর নেন। পরে তাকে জানান, বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে মোস্তাক অন্যত্র বিয়ে করে। সম্প্রতি তার অন্যত্র বিয়ের খবর জানতে পারে তরুণী। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিয়ের দাবিতে মোস্তাকের বাড়িতে যান তার মেয়ে। সেখানে মোস্তাক ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তরুনীর মা। মারধরের একপর্যায়ে মেয়ের হাতে বিষের বোতল দিয়ে বিষ পান করে মারা যেতে বলা হয় বলেও দাবি তার। পরে স্বজনেরা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মা বাদী হয়ে মোস্তাক হোসেন, তার বাবা সোনা মিয়া (৬০) ও ভাই রাজা মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মারধর, প্রতারণা ও হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জীবননগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


