আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজকৃষি ও পরিবেশদামুড়হুদায় ফুলকপির ক্ষেতে পচন,  কৃষকের ক্ষতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা

দামুড়হুদায় ফুলকপির ক্ষেতে পচন,  কৃষকের ক্ষতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা




কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:

দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে ফুলকপির ক্ষেতে ব্যাপক পচন দেখা দিয়েছে। ভালো ফলন ও ন্যায্য দামের আশায় জমিতে বিনিয়োগ করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই ক্ষেতের ফুলকপি পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে তিন কৃষকের প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে। ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
সরেজমিনে জানা যায়, ফুলকপির ক্ষেতজুড়ে সাদা ফুলের সমারোহ থাকার কথা থাকলেও পচন ধরায় কৃষকদের সেই স্বপ্ন এখন ম্লান। জমি তৈরি, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও পরিচর্যায় তাঁদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। অনেক কৃষক ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে আবাদ করেছেন। ফসল বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটানো, ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের চাহিদা পূরণের যে আশা ছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তার জমিতে ব্যাপক পচন দেখা দেয়ায় প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষতিতে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
একই গ্রামের ইসমাইল হাজীর ছেলে কৃষক ফারুক জানান, তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছিলেন। কিন্তু পচনের কারণে তার পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এতে তার আনুমানিক চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরেক কৃষক হালিম মোল্লার ছেলে মুকুল শেখ জানান, তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। তার ক্ষেতেও পচন দেখা দেয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই তিন কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা।
ফুলকপির ক্ষেতে কী কারণে পচন দেখা দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, জমিতে পানি জমে থাকা, পানি নিষ্কাশনের ঘাটতি কিংবা ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত রোগের কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। তবে রোগের ধরন শনাক্ত না করে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের আক্রান্ত জমি পরিদর্শন, রোগের কারণ নির্ণয় এবং কার্যকর পরামর্শ দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। রোগ শনাক্ত না করে অনুমাননির্ভর কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে কৃষকের বাড়তি খরচ হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ফুলকপি চাষে তাদের অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এখন ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই টাকা ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঋণ ও ধারদেনা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের দাবি, উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করে পচনের কারণ শনাক্ত করুন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিন। পাশাপাশি ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সম্ভব হলে সরকারি প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ