আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজরাজনীতিশওকত আলীর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তি চলে যাওয়া দলের অপূরণীয় ক্ষতি: মাহমুদ হাসান...

শওকত আলীর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তি চলে যাওয়া দলের অপূরণীয় ক্ষতি: মাহমুদ হাসান বাবু




দর্শনা অফিস:

দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হাজী শওকত আলী খন্দকারের স্মরণে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণসভায় বক্তারা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক অবদান, সততা ও স্পষ্টবাদিতার কথা তুলে ধরে বলেন, সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে দর্শনার রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে দর্শনা রেল ইয়ার্ড চত্বরে দর্শনা পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ’র সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। প্রধান আলোচক ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য এনামুল হক শাহ মুকুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, হাজী শওকত আলী খন্দকার ছিলেন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সত্য কথা বলা। রাজনৈতিক জীবনে সত্য ও নীতির প্রশ্নে তার স্পষ্ট অবস্থান তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি নিজের আদর্শ ও বিশ্বাসকে ধারণ করেছেন। তার মতো অভিজ্ঞ ও স্পষ্টবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়া দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। মাহমুদ হাসান খান বাবু আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও ভালো গুণাবলি থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।
প্রধান আলোচক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, হাজী শওকত আলী খন্দকারের মৃত্যুতে তারা একজন স্পষ্টবাদী প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দর্শনা পৌর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তাকে স্মরণীয় করে রাখবে। শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, মানুষের জীবনে পদ-পদবির চেয়ে কাজ, আচরণ ও আদর্শই বড়। মরহুমের জীবন থেকে সেই শিক্ষাই নেয়ার আছে। তিনি শওকত আলী খন্দকারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, শওকত আলী খন্দকার ছিলেন দলের একজন অভিজ্ঞ ও শ্রদ্ধাভাজন নেতা। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবার মনে থাকবে। এ স্মরণসভা শুধু তাকে স্মরণ করার আয়োজন নয়, তার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান থেকে শিক্ষা নেয়ারও একটি উপলক্ষ।
বাবার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে হাজী শওকত আলী খন্দকারের ছেলে শাকিল খন্দকার বলেন, তার বাবা রাজনীতিবিদ হওয়ার পাশাপাশি একজন সত্যবাদী মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে গিয়ে তার বাবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর ভোর চারটার দিকে নিজ বাড়িতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান হাজী শওকত আলী খন্দকার। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্মরণসভায় আরও বক্তব্য ও উপস্থিতির মধ্য দিয়ে মরহুমের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের অভিজ্ঞতা ও অবদান দলীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের স্মরণ করা এবং তাদের ভালো কাজগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য হাজী মশিউর রহমান, নাহারুল ইসলাম মাস্টার, ইকবাল হোসেন, নাসির উদ্দীন খেদু, মইদুল ইসলাম, শরিফ উদ্দিন ও রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা এবং জেলা বিএনপি, দর্শনা থানা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুম হাজী শওকত আলী খন্দকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ