আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজস্বাস্থ্যচিকিৎসা ব্যয়ের টাকা ফেরত না পেয়ে সিভিল সার্জনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায়...

চিকিৎসা ব্যয়ের টাকা ফেরত না পেয়ে সিভিল সার্জনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ




আলমডাঙ্গা অফিস:

আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর স্ত্রীর পেটে সংক্রমণ এবং পরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করানোর ঘটনায় চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হওয়া টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলু ও তার ছেলে আবিরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সন্টু রহমান (৩৫)।
গত বৃহস্পতিবার আলমডাঙ্গা থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে সন্টু রহমান দাবি করেন, গত ২০ আগস্ট আনন্দধাম রোডসংলগ্ন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে তার স্ত্রী চুমকি খাতুনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিনের মধ্যেই তার স্ত্রীর পেটে অস্বাভাবিক জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সন্টুর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় অপারেশনের স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই সেলাই করা হয়েছিল। তার দাবি, ওই সময় সেখানে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন, ডা. সালাম ও ক্লিনিক মালিকের ছেলে আবির উপস্থিত ছিলেন। অস্ত্রোপচারটি করেন সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন। অভিযোগে সন্টু বলেন, অস্ত্রোপচারের কয়েক দিন পর স্ত্রীর পেটে তীব্র জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হলে তিনি বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানান। বাবলু এটিকে গ্যাসের ব্যথা বলে কিছু ওষুধ দেন। কিন্তু ওষুধ সেবনের পরও ব্যথা না কমায় স্ত্রীকে চিকিৎসক ডা. হাদী জিয়া উদ্দিনের কাছে নিয়ে যান তিনি। সন্টুর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক নিজ হাতে তার স্ত্রীর পেট পরীক্ষা করেন। পরে তাকে আবার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং কিছু ওষুধ লিখে দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চুমকি খাতুনকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার পেটের জ্বালাযন্ত্রণা না কমায় গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে কুষ্টিয়ায় নেয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক সনজিনের মাধ্যমে চুমকি খাতুনের আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। সেখান থেকে তাদের জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার কারণে পেটের ভেতরে ময়লা জমে সংক্রমণ হয়েছে। পরে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন সন্টু। ওই পরামর্শ অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চুমকি খাতুনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ সেপ্টেম্বর তার পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করেছেন সন্টু। তার আরও অভিযোগ, বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানানো হলে চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হওয়া পুরো টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হয়। তখন তাকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয় এবং বাকি টাকা পরে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে বাকি টাকা দেয়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে সাজাহান, রফিকুল ইসলাম ও বেল্টুর নাম উল্লেখ করেছেন সন্টু। তাদের বাড়ি আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামে। এছাড়া আরও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্টু রহমান বলেন, তিনি দরিদ্র মানুষ। ধারদেনা করে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন। চিকিৎসা ব্যয়ের বাকি টাকা না পেলে স্ত্রীর পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এতে তার স্ত্রীর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারেÑএমন আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে সন্টুর অভিযোগের সঙ্গে একমত নন ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী বাবলু। তিনি বলেন, চুমকি খাতুনের অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যানেসথেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম। অস্ত্রোপচারের পর রোগী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বাবলুর ভাষ্য, পরে কোনো কারণে হয়তো রোগীর পেটের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। এ কারণে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, অপারেশনের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার কারণে সংক্রমণ হয়েছেÑএমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বাবলু বলেন, কোনো চিকিৎসক অপারেশনের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করবেন কী-না, সেটিই প্রশ্ন। তার দাবি, যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চুমকি খাতুনের অস্ত্রোপচারের সময় তাকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছিল বলেও জানান বাবলু। তার দাবি, তখন রোগীর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। পরে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তারা তা নেননি। চিকিৎসায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বাবলু বলেন, রোগীর পরিবার দরিদ্রÑএটি তিনি জানেন। তবে সব মিলিয়ে চিকিৎসা বাবদ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে, এর বেশি নয়।
অভিযোগে উত্থাপিত বিষয় সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী গত বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দিতে এসেছিলেন। বিষয়টি জেনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চিকিৎসায় অবহেলা বা অস্ত্রোপচারে ত্রুটি ছিল কী-না, তা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে বিষয়টি পুলিশের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ