সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি:
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের নওলামারি ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, নৈতিক ও মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তাদের আচরণ, নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয় এ সমাবেশে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসার হলরুমে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম শ্রেণি থেকে ফাজিল পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মায়েদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করা, তাদের আচরণগত উন্নয়ন এবং মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে অভিভাবকদের বিভিন্ন পরামর্শ নেয়া হয়।
নওলামারি ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি নাজমুস সাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাসকররা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ এবং নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম। এছাড়া আলমডাঙ্গা থানা জামায়াতে ইসলামী এবং খাসকররা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑবিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে না। দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলির চর্চাও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা দিনের একটি বড় সময় পরিবারে কাটায়। তাই তাদের পড়াশোনার অগ্রগতি, বন্ধু নির্বাচন, আচরণ ও দৈনন্দিন অভ্যাসের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। সমাবেশে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক বিকাশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


