জীবননগর অফিস:
জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন ভৈরব নদের পাড়ে সামাজিক বনায়নের প্রায় দুই হাজার বাড়ন্ত গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্থানীয় মানুষের কল্যাণে গড়ে তোলা বনায়নের এসব গাছ কেটে ফেলায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে। ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সামাজিক বন বিভাগ যশোর ও কুষ্টিয়ার দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি ভৈরব নদের পাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বনায়ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় কেটে ফেলা গাছের অবস্থা দেখে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল বলেন, এই গাছগুলো আমাদের সন্তানের মতো। বীজতলা থেকে শুরু করে পরম যত্নে এগুলোকে এই পর্যন্ত আগলে রাখা হয়েছিল। এই বনায়ন মূলত এলাকার মানুষের কল্যাণের জন্যই করা হয়েছিল। এত সুন্দর একটি স্থানে বাড়ন্ত গাছের এই তছরুপ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীর পাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং এলাকার মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যে সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দুই হাজার বাড়ন্ত গাছ কেটে ফেলায় সেই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠার আগেই কেটে ফেলার ঘটনায় বনায়ন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল এবং পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু। এছাড়া সংগঠনটির কর্মী নীরব, বায়েজিদ ও ফারদিনসহ বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।


