নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’Ñজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এ আহ্বানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী নজরুল বর্ষ উদ্যাপন। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং গান, নাচ ও আবৃত্তির আয়োজন। জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবিই নন, তার সাহিত্যকর্ম সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণমুক্ত সমাজের প্রত্যাশায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে তার আদর্শ ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনের পর একই স্থানে কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম, সৃষ্টির পটভূমি ও তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র। সংগীতশিল্পী হিরন উর রশিদ শান্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নাম। বাংলা সাহিত্যে তার অবদান অসামান্য। বাংলাদেশ সরকার এ বছরকে নজরুল বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, শোষণমুক্ত সমাজ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা ফুটে উঠেছে। লেখনীর মাধ্যমে তিনি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, নজরুলের আদর্শ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার সাহিত্যকর্ম চর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নজরুলের জীবন ও দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ, সংলাপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সভাপতি নজির আহমেদ, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আলাউদ্দিন, জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস, উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি হাবিবী জহির রায়হান এবং আবৃত্তি পর্ষদের পরিচালক মনোয়ারা খুশি প্রমুখ।
আলোচনা সভার পাশাপাশি দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। এতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন স্থানীয় শিল্পী ও প্রতিযোগীরা। সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিভিন্ন গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে কবির সৃষ্টিকে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন জাসাসের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি চত্বর।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীতের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। জাতীয় কবির আদর্শ ও সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য ও শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উদ্যাপনের এ আয়োজন চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়জুড়ে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সংগীতকে ঘিরে উৎসবের আবহ ধরে রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


