নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি আসির উদ্দিন ইসলামিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের সার্বিক উন্নয়ন, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সবার নৈতিক দায়িত্ব। সম্মিলিত উদ্যোগে এগিয়ে এলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। গতকাল শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি আসির উদ্দিন ইসলামিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, থাকা-খাওয়া ও সামগ্রিক বিকাশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব শিক্ষার্থীর জন্য সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার অবকাঠামোগত ও শিক্ষার পরিবেশের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নিলে উন্নয়নের পথ সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং এতিম ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় সুধীজন ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অসহায় ও এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, নৈতিক শিক্ষা এবং সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাদ্রাসাটি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সুধী সমাবেশে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য সুধীজন অংশ নেন।


