জীবননগর অফিস:
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং মেধাবীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে কৃতি শিক্ষার্থী ও সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা দিয়েছে অন্বেষণ সংগঠন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া দুই শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এ আয়োজন করে সংগঠনটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অন্বেষণ সংগঠনের সভাপতি ও ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মামুন-উর রশীদ। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সালাহ উদ্দিন চপল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিউলি খাতুন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও স্কাউটস ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক অহিদুল হক স্বপন, সহকারী অধ্যাপক আমেনা আক্তার, শিক্ষক গোলাম ফারুক, প্রভাষক এমাজউদ্দীন মিল্টন, প্রধান শিক্ষক নাছিমা খাতুন, সরকারি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক সাব্বির আহম্মেদ ও প্রভাষক ইনামুল মুরসালিনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, উথলী গ্রামের ৭৬ জন শিক্ষককে নিয়ে অন্বেষণ সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশেও শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন। নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করা এবং তাদের মেধা ও যোগ্যতার বিকাশে ভূমিকা রাখাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। তারা বলেন, কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সঠিক পরামর্শ দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহ জোগানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করা শিক্ষকদেরও উৎসাহিত করা হয় এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।


